মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুশ শাকুর ১৯৯৪ সালে দ্বীনি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদীস অধ্যয়ন সমাপ্ত করে তাবলীগি সফর শেষে শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান রোডে অবস্থিত তাঁর চাচার বাসায় অবস্থান করেন। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী খাসগাঁও হাসানিয়া মাদরাসায় মহান শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন।
যদিও তিনি দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন, তবুও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও দ্বীনি শিক্ষার দুরবস্থা তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। তাঁর অন্তরে দীর্ঘদিন ধরে লালিত ছিল দ্বীনের খেদমতকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর স্বপ্ন — এ অঞ্চলে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।
ঠিক একইভাবে তাঁর চাচা, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার লন্ডনপ্রবাসী এক দ্বীনপ্রেমী শিক্ষানুরাগী ডা. এখলাছুর রহমান সাহেবও দীর্ঘদিন ধরে একটি আদর্শ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার চিন্তা লালন করছিলেন।
কালের পরিক্রমায় একদিন এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের অন্তর্নিহিত সুমহান চিন্তাধারার মিলন ঘটে। মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুশ শাকুর তাঁর চাচার কাছে প্রেরিত এক দীর্ঘ চিঠিতে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং সিন্দুরখানস্থ ঐ বাসাবাড়িতে পরিকল্পিত মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
এরপর বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদদের পরামর্শক্রমে উভয়ের চিন্তা ও কর্মপ্রচেষ্টা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়।
পরিশেষে মহান রাব্বুল কারীমের অফুরন্ত অনুগ্রহ ও মেহেরবানিতে ১৯৯৮ সালের ২ রমযান ১৪১৮ হিজরি তারিখে
“জামেয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদরাসা, সিন্দুরখান রোড, শ্রীমঙ্গল” নামক এই দ্বীনি দরসগাহের শুভ সূচনা হয়।
স্থানীয় দ্বীনি শিক্ষার দুরবস্থা দেখে বৃহত্তর একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের সূচনা।
লন্ডনপ্রবাসী শিক্ষানুরাগী ডা. এখলাছুর রহমানের সাথে চিন্তাধারার মিলন।
বিশিষ্ট আলেমদের পরামর্শে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়।
১৯৯৮ সালের ২ রমযান “জামেয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদরাসা” প্রতিষ্ঠা।
জাতীয় ও কওমি সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিজ্ঞ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের হিফজ শিক্ষা।
বক্তৃতা, প্রতিযোগিতা, দেয়াল পত্রিকা ও সৃজনশীল কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত জামেয়া ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গল অসংখ্য হাফেজে কুরআন ও বহু যোগ্য আলেম-আলেমা তৈরি করেছে।
বোর্ডের ফাইনাল পরীক্ষায় স্টার মার্কসহ রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মাদরাসার সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
পবিত্র মাহে রমযানে ক্বিরাআতের সর্বোচ্চ শ্রেণিতে স্টার মার্কসহ মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে বহু শিক্ষার্থী সনদপ্রাপ্ত ক্বারী হয়েছেন।
এছাড়া জামেয়া আয়োজিত রমযানব্যাপী টেলিভিশনভিত্তিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা “ওহির পরশ” দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জামেয়ার শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, যা প্রতিষ্ঠানের গৌরব ও মর্যাদাকে আরও সমুন্নত করেছে।
কুরআন-হাদীসের পাশাপাশি আধুনিক বিষয়ের মানসম্মত শিক্ষা।
চরিত্র গঠন, তারবিয়াত এবং সুন্নাহময় জীবন গঠন।
দাওয়াত, ভাষা, সাহিত্য ও বক্তৃতায় দক্ষতা বৃদ্ধি।
ইসলামী আদর্শের প্রচার-প্রসার।
দ্বীনের জ্ঞান সমাজে পৌঁছানো।
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।
শোরীবাজার, মৌলভীবাজার
সিন্দুরখান রোড, শ্রীমঙ্গল
আমিনবাগ আ/এ
ইসলামবাগ আ/এ
উচ্চতর ইলমুল কিরাআত কোর্স চালু।
বয়স্কদের জন্য দ্বীন শিক্ষার কোর্স।
কারিগরি বিভাগ চালু।
বহুতল আবাসন ভবন নির্মাণ।
বৃহৎ পাঁচতলা মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন।
দামি কিতাবাদীসহ সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার।
সকল শিক্ষার্থীর জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
সামাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা!
জামই’য়া ইসলামিয়া শ্রীমঙ্গল প্রতিষ্ঠানটি হতে ইলমে দ্বীনের মহান খেদমতে আঞ্জাম দিয়ে আসছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ সুনাগরিক এবং কর্নেল হাফেজ, আলেম-আলেমা তৈরিতে অসাধারণ অবদান রেখে চলেছে এ মাদরাসাটি। শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদরাসার ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাদরাসার ছাত্র ও মুস্তীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বিশাল মসজিদের প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হ’ছে। ইতোপূর্বে পাঁচতলা বিশিষ্ট মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে অসম্পূর্ণ মসজিদটির কাজ আপাতত স্থগিত, শুধুমাত্র সামর্থ্যিক ব্যয়ভার ক্রমাগত কষিয়ে বইছে। তাছাড়া জামই’য়ার স্থায়ী ও নিয়মিত কোন আয়ের উৎস নেই, বাক্যের করিমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, তাঁর উপর ভরসা করে ও দেশী-প্রবাসী দ্বীনি ভাই বোনের স্বেচ্ছাদানে এ দরসগাহটি পরিচালিত হ’চ্ছে।
তাই এ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উন্নতি ও অগ্রগতির লক্ষে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা, দু’আ ও নেক পরামর্শ একান্তভাবে কামনা করছি।
মাআসসালাম
মুহাম্মদ আব্দুশ শুকুর
পরিচালক